বিজ্ঞপ্তি :
Wellcome to our website...

মাধবদীতে হারিয়ে যাচ্ছে বিলাতি গাব

মোঃ আল আমিন : 52 দেখা হইছে
প্রকাশিত: November 2, 2026, 6:29 pm

মাধবদী (নরসিংদী) : একসময়ের বহুল পরিচিত মৌসুমি ফল বিলাতি গাব এখন ক্রমেই বিরল হয়ে পড়ছে নরসিংদীর মাধবদীতে। অপরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে ফেলা, নতুন করে চারা রোপণ না করা এবং গ্রামীণ পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে এ ফলের গাছ দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই বিলাতি গাবের সঙ্গে পরিচিত নয়। বিলাতি গাব দেখতে অনেকটা আপেলের মতো। এর হালকা বাদামি লোমশ খোসা, সাদা নরম শাঁস এবং মিষ্টি স্বাদের কারণে এটি বেশ জনপ্রিয় ছিল। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসে ফল পাকে। স্থানীয়দের মতে, বাদুড় ফল খেয়ে বীজ ছড়িয়ে দেওয়ায় একসময় গ্রামাঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই এ গাছ জন্মাত। কাঁচা ফল সবজি হিসেবে রান্না করে বা নুন-মরিচ দিয়ে খাওয়া হয়, আর পাকা ফল খাওয়ার পাশাপাশি জুস, ডেজার্ট ও বিভিন্ন খাদ্য তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।
পাকা বিলাতি গাবের প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে খাদ্যশক্তি ৫০৪ কিলোক্যালরি, জলীয় অংশ ৮৩.০-৮৪.৩ গ্রাম, আমিষ ২.৮ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, শর্করা ১১.৮ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১.৮ গ্রাম, চিনি ১১.৪৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৩৫ আইইউ, ফসফরাস ১৮ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৬ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৮ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১১০ মিলিগ্রাম এবং পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম।
মাধবদী বাজার ফলপট্টির ফল বিক্রেতা হানিফ মিয়া ও জুয়েল বলেন, আগে এ অঞ্চলে বিলাতি গাব সহজেই পাওয়া যেত, এখন দু-একটি গাছ টিকে আছে। হানিফ মিয়ার বাড়ির গাছের ফল প্রতিটি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
মাধবদী বাজারের ব্যবসায়ী ওসমান গনি জানান, বিলাতি গাব পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং সুস্বাদু। একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এ গাছ ছিল। বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন না হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিলাতি গাব সংরক্ষণ ও নতুন করে চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্যবাহী ফলের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর পড়তে চান