বিজ্ঞপ্তি :
Wellcome to our website...

জিয়ানগরে বাল্যবিবাহের অভিযোগে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: 75 দেখা হইছে
প্রকাশিত: November 2, 2026, 6:24 pm

জিয়ানগর (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় বাল্যবিবাহে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এক ইউপি সদস্যের কাছ থেকে একটি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রার) বই উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হলেন উপজেলার ১ নম্বর পাড়েরহাট ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আবুল বাশার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আবুল বাশার স্থানীয় এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের সহযোগী পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিয়ে নিবন্ধনের কাজ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করা, সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাল্যবিবাহের ঘটনায় বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসে। পরে গত শনিবার (১ আগস্ট) পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের চর হোগলাবুনিয়া গ্রামে আরেকটি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ওই বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় ইউপি সদস্য আবুল বাশারের কাছ থেকে একটি নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিবন্ধন বই উদ্ধার করা হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর শারিকতলা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে ৭ নম্বর শংকরপাশা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হান্নান মোল্লার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।
তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মো. আব্দুল হান্নান মোল্লা ওই দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আবুল বাশার আমার কোনো সহযোগী নন। তাকে আমার পক্ষ থেকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি আমার নামে কাজ করারও কোনো অনুমতি পাননি।” তিনি আরও দাবি করেন, আবুল বাশার নিজেকে কাজির সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন এবং তাকে “ভুয়া কাজি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আবুল বাশার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করতেন এবং সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। এছাড়া সরকার নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া নিবন্ধন বই পর্যালোচনায় অভিযোগ অনুযায়ী দেখা যায়, গত দেড় মাসে এতে ৩০টি বিয়ের নিবন্ধনের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি নিবন্ধন বাল্যবিবাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ উঠেছে। বাকি ১৫টি নিবন্ধনের তথ্যেও বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. আবুল বাশার বলেন, “আমার ভুল হয়েছে।” তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মোহাম্মাদ হাফিজুর রহমান বলেন, “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, উদ্ধার হওয়া নিবন্ধন বইয়ের সব তথ্য যাচাই এবং কোনো বাল্যবিবাহ বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর পড়তে চান