জিয়ানগর (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের জিয়ানগরে সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত ৮টি দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. রুবাইয়াত ফেরদৌস ও জিয়ানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওলিউর রহমান (রুবেল)-এর নেতৃত্বে এবং ইন্দুরকানী থানা পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার কালাইয়া খায়েরহাট এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উচ্ছেদ করা দোকানঘরগুলোর মালিকরা হলেন—মো. জামাল মোল্লা, মো. মামুন, মো. বাশার আকন, নুরুল ইসলাম, মো. বাসার মৃধা, মো. হাবিবুর রহমান, মো. সোবাহান খান ও মো. আনিস।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদের আগে দোকানঘরগুলোর মালিকদের নিজ নিজ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিশ পাওয়ার পরও কোনো দোকান মালিক তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেননি। পরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জিয়ানগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওলিউর রহমান (রুবেল) বলেন, “সরকারি জমি ও খাল দখল করে নির্মিত সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারসহ সরকারি জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।”
পিরোজপুর জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. রুবাইয়াত ফেরদৌস বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দখলকারী দোকান মালিকদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তারা তা আমলে নেননি। পরে বাধ্য হয়ে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি জমি ও খাল অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত সব স্থাপনা উচ্ছেদে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জিয়ানগরে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে ‘দলীয় সুপারিশের’ অভিযোগ, মেধা তালিকা উপেক্ষিত
জিয়ানগর (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের জিয়ানগরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে জনবল নিয়োগে মেধা তালিকা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিএনপির সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাধারণ আবেদনকারী ও মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষে গত ৪ আগস্ট সকালে তিন শতাধিক প্রার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ওই দিনই মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ফলাফল ও নিয়োগ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দলীয় সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফলে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় সুপারিশই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে জনবল নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে নিয়োগ কমিটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে জিয়ানগরে নিয়োগের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আল-আমিন হোসেন সুপারভাইজার পদে এবং সরকারি ইন্দুরকানী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি মো. মারুফ তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া নিয়োগ পাওয়া অন্যদের নিয়েও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেধা তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, “পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে মেধা যাচাইয়ের জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি দলীয় পরিচয় ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন কী ছিল? আমরা যোগ্য হয়েও বঞ্চিত হয়েছি।”
তাদের অভিযোগ, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলে সরকারি কার্যক্রমেও দলীয়করণের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করব না।”
এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “যারা ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবহারিক পরীক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ৭০শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা সবাই যোগ্য প্রার্থী। এসব যোগ্য প্রার্থীর মধ্য থেকে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু ছাত্রদল ও যুবদলের সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে, আর কোনো দল বা মতের কাউকে উত্তীর্ণ করা হয়নি”-এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি, অনেক অভিজ্ঞ প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও অনভিজ্ঞদের দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।